সন্ধ্যার স্মৃতিচারণা
বিকেল ছটা। হাঁ মুম্বই এ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ছটা টা বিকেল বেলাই। সূর্যটা একটু একটু করে লাল হচ্ছে, আর আজকের মত বিদায় নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমার জানলা দিয়ে এসময় অনেক কিছু দেখা যায়। সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা, তারপর লোকবসতি শুরু হয়েছে। বাঁদিকে পাওয়াই লেকের শেষপ্রান্ত কাস্তের ডগার মত দেখা যায়। ডানদিকে পাহাড়। পুরো উত্তর-পূর্ব কোণ জুড়ে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা পুরনোযুগের ঋষির মত ধ্যানে নিমগ্ন। হু হু করে হাওয়া বইছে। বাংলার বসন্তের বিকেলের সাধারন হাওয়ার থেকে এ হাওয়ার জোর অনেক বেশী। পাহাড় লেক আর জনবসতির সামনে দিয়ে একটা রাস্তা সোজা চলে যায়। আমি রোজ বিকেলে জানলার সামনে বসি। চেনা রাস্তা দিয়ে অচেনা লোকজনদের দেখতে ভালই লাগে।
লেকটা যেখানে শেষ হয়েছে ঠিক সেখানেই একটা বিরাট বড় হোটেল। সূর্যটা ডোবার ঠিক আগে হোটেলটার পিছনে চলে যায়। তাই কোনোদিনই আমি সুর্যাস্ত দেখতে পাই না। ডুবন্ত সুর্যের আলো লেকের জলে পড়ে প্রতিদিনের চেনা লেককে রোজই নববধূর সাজে সাজিয়ে তোলে। আমি রঙের খেলায় ডুবে যাই......।
মনে পড়ে পুরনো বন্ধুদের কথা। যারা একদিনের সবচেয়ে প্রিয় ছিল তাদের কথা। মনে পড়ে যারা ভুল বুঝে আজ অনেক-অনেক দূরে চলে গিয়েছে, তাদের কথা। মনে পড়ে ঘরে বসে ছোট্ট বোনটা দিন গুনছে, আর তিনমাস পর দাদা কলকাতা ফেরত আসবে। সন্ধ্যাবেলায় দিদা নামাজের পর অনেক্ষন নামাজের পাটিতে বসে থাকতেন। আর মনে মনে কি যেন বলতেন। আমি একদিন চুপি চুপি পিছনে গিয়ে শুনেছিলাম। দিদা বলতেন, “দুনিয়ার গুনাহ (পাপ) মাফ কর আল্লা, দুনিয়ার গুনাহ মাফ কর আল্লা...”। দিদা ক্যান্সার-এ মারা যান। কেউ না বললেও উনি বুঝে যান ওনার ক্যন্সার হয়েছে। বলতেন - “আর বেশিদিন নেই, আল্লার ডাক শুনতে পাচ্ছি”।
ক্যন্সার ধরা পড়ার ঠিক পাঁচ মাসের মাথায় ভোরবেলায়, ব্রাহ্মমুহুর্তে দিদা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

This comment has been removed by the author.
ReplyDeleteআমি সেইসময় বুঝি নি যে তুমি আমার দিন গোনার কথা জানতে। সেই সময় কেন, এই লেখাটা না পড়লে এখনও ঠিকমতো জানতাম না। নভেম্বর, ২০১১... সময়টা মনে পড়ছে.. তখন আমি শুধু জানতাম দাদাকে আর কোনোদিন পাওয়া যাবে না আগের মতো করে। আর জানতাম মনখারাপ বা দিন গোনার কথা দাদাকে ঠিক আর বলাও যায় না। এ সব হয়তো নিছক ভাবালুতা বা ‘রাবীন্দ্রিক’ প্রভাব।
ReplyDeleteএরকমটা না হলেই ভালো হতো।