অস্তিত্বের সঙ্কট, নাকি এটাই স্বাভাবিক


দিনের পর দিন যায়, আর একটু একটু করে আমরা বদলাতে থাকি। আমাদের রোজকারের জীবনযাত্রা বদলায়। যে আমি একসময় Semester এর Result এর কথা না ভেবে শুধু নিজের ভালোলাগার জন্য Physics পড়তাম, সেই আমি আজ Competitive Exam এর জন্য International Relations, Economics ইত্যাদি পড়ি। কিন্তু এটাও সত্যি যে এইসব কিছু পড়তেও খারাপ লাগা তো দূরের কথা, একইরকম ভালো লাগে। সেই একই রকম আনন্দ পাই, মনে হয় নতুন কিছু জানছি, শিখছি। বহুদিন Physics পড়িনি, পড়ার প্রয়োজনও হয়নি। এখনও যখন পড়ি, ভালই লাগে। 

একটাই কথা আমি মনে মনে ভাবি, আমি কি নিজের প্রয়োজনে নিজের ভালোবাসা বা ভালোলাগাকে নিয়ন্ত্রন (control) করছি? যদি তাই হয়, তাহলে আমার নিজের অস্তিত্ব কি আমার প্রয়োজনের উপর নির্ভর (depend) করে? আমি কি তাকেই ভালোবাসি যাকে আমার প্রয়োজন, যে আমার জীবনকে সবথেকে সুখে রাখতে পারবে বলে আমার মনে হবে তাকেই কি আমি আস্তে আস্তে ভালোবাসা শুরু করব? সতের বছরের আমি, আর চব্বিশ বছরের আমার পছন্দ - অপছন্দ, ভালোলাগা – ভালোবাসা এভাবেই অনেক অনেক বদলে গেছে, এবং দিনের সঙ্গে সঙ্গে আরও বদলাচ্ছে। দীপাবলির শুভ সন্ধ্যায় আমার মনে এটাই প্রশ্ন- এটা কি আমার অস্তিত্বের সঙ্কট, নাকি এই পরিবর্তনটাই মানুষের পরিণতি? 

Comments

  1. aaro chai khub valo hoyeche..........

    ReplyDelete
  2. দেখি, কবে আর কিছু লিখতে পারি।

    ReplyDelete
  3. somoy kore lekh... khub valo laglo

    ReplyDelete
  4. বাইরে তুমি যতই রাগী হও, রাশভারি, গম্ভীর, শক্তগোছের মানুষ, তোমার লেখার মধ্যে দিয়ে আসল তোমাকে বেশ দেখা যাচ্ছে। সব ক’টা পড়লাম। খুব ভালো লাগল। চব্বিশ বছর বয়সে অস্তিত্ব সম্পর্কে তোমার যে প্রশ্ন, সেই প্রশ্ন কখনও আমার মনেও জেগেছে। কিন্তু সামনাসামনি তোমার সঙ্গে এই ধরনের গল্প করার সাহস কখনও হয়ে ওঠেনি। আজও হয় না। মনে হয় গাল দিয়ে ভাগিয়ে দেবে। এইসব অবসরের লেখা একটা জানালার মতো। একটা বড়ো ঘরের মধ্যে বসে তুমি তার সব জিনিস দেখতে নাও পেতে পার। অথচ খোলা জানালা দিয়ে সেটাই প্রথম চোখে পড়তে পারে। প্রায় একইরকম একটা কারণে ঘরের মালিকেরও মাঝে মাঝে জানালা খোলার প্রয়োজন পড়ে। উপমা আর তার প্রয়োগটা খুব একটা ভালো হল না। বাংলা M.A. এর পক্ষে যথেষ্ট নড়বড়ে, তাই তো? যাই, পড়তে বসি। 😊

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular Posts